দ্যা স্পিড ডু অর ডাইঃ মরা-বাঁচার এক অনবদ্য (!) কাহিনী!

বাংলা সিনেমার সময়কালকে দু’ভাগে ভাগ করা যায় – “খোঁজ-দ্যা-সার্চ এর আগের সময়” এবং “খোঁজ-দ্যা-সার্চ এর পরবর্তী সময়”। যারা অবাক হয়ে ভাবছেন যে খোঁজ-দ্যা-সার্চ আবার কী বস্তু – তারা দয়া করে এখান থেকে ঘুরে আসুন, বহুৎ ফায়দা হবে। খোঁজ-দ্যা-সার্চ নামের সেই কালোত্তীর্ণ মহাকাব্যের পর বাংলার মহানায়ক জলিল (ওরফে অনন্ত) বঙ্গবাসীর জন্য নিয়ে এসেছেন তার নতুন রোমান্টিক-সামাজিক-অ্যাকশন-মেলোড্রামা-সাইফাই-মিস্টেরিয়াস-সাইকোথ্রিলার-ফ্যান্টাসি ছবি “দ্যা স্পিডঃ ডু অর ডাই”। এতটুকু বললে আসলে কম হয়ে যায় – এই ছবিকে ইচ্ছা করলে দেশপ্রেম ভিত্তিক ছবি, কিংবা স্পোর্টস ছবি বা হরর এমনকি লাইভ অ্যাকশন অ্যানিমেশন ক্যাটাগরিতেও ফেলা সম্ভব। ইনফ্যাক্ট সব ধরণের ক্যাটাগরিতেই একে ফেলা সম্ভব। কী নেই এই সিনেমাতে! নায়ক, নায়িকা, অতি পাকনা শিশু শিল্পী, ধুমসি সাইজের চাকরাণী, স্যুট পড়া  ড্রাইভার, ম্যান ইন ব্ল্যাক বডিগার্ড, বাংলাদেশী পুলিশ, মালয়শিয়ান পুলিশ, অনেক প্লেন, বিশাল গাড়ির বহর, আলিশান সব বাড়ি, বিদেশী হোটেল, বিদেশী রেস্টুরেন্ট, অতিমানবীয় নাচ-গান, স্পিড বোট, জেটস্কি, ক্রুজার, মোটর বাইক, দুর্ধর্ষ ভিলেন, সাথে ফাউ ফাউ মহিলা ভিলেন, ভিলেনের সাঙ্গপাঙ্গ, বিশাল ভিলেন বাহিনী, ঘোড়া, ডাক্তারের দল, সমুদ্র, অস্ত্র, ডিজিটাল ঘড়ি, গ্যাস চেম্বার – এলাহী কারবার! এক কথায় লিখে শেষ করা যায়না। সিনেমার ক্যাটাগরি বিশ্লেষনে একটু পর আসছি। তার আগে সিনেমা সম্পর্কে বলে নেই। এ বিষয়ে কোন ভুল নেই যে এই সিনেমা এখন পর্যন্ত “খোঁজ-দ্যা-সার্চ এর পরবর্তী সময়” এর সিনেমাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপরিহার্য সিনেমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  Keep reading →  

  … এবং আইসক্রিম স্যান্ডউইচ!

শিরোনাম পড়ে আপনি যদি মনে করেন যে আমি এখন আইসক্রিম স্যান্ডউইচ নামক অতিশয় সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্যখানার গুনগান নিয়ে আপনার সামনে হাজির হব, তাহলে আপনাকে আইসক্রিম স্যান্ডউইচের বদলে বিশাল একটা ধাক্কা খেতে হবে। এই লেখাখানার বিষয়বস্তু কোন খাদ্যবস্তু নয়, বরং গুগলের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডের নতুন ভার্সনকে নিয়ে। যারা আমার ব্লগ মোটামুটি নিয়মিত পড়েন তারা ইতিমধ্যেই জানেন যে বহু শখ করে বিস্তর গবেষণা করে এই গরীব সপ্তাহ কয়েক আগে একটা ড্রয়েডের মালিক হয়েছি। নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন যে আমার মত গরীবের ব্লগে আবার লোকজন নিয়মিত পড়ে! আপনাকে দোষ দিইনা, আমি নিজেই হতবাক যে আমার ব্লগে লোকজন নিয়মিতই আসে। যাই হোক কাজের কথায় আসি। আমি যে ড্রয়েডখানা কিনেছিলাম সেটা ছিল এক্সপেরিয়া ঘরাণার। এর অপারেটিং সিস্টেম ছিল অ্যান্ড্রয়েডের ২.৩.৪ যার কোডনেম জিঞ্জারব্রেড। অনেকদিন ধরেই অ্যান্ড্রয়েডের একেবারে নতুন ভার্সন ৪.০ (কোডনেম আইসক্রিম স্যান্ডউইচ বা আইসিএস) এর জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলাম।

  Keep reading →  

  শুভ বন্টুবর্ষ ১২০৪

বছর দুয়েক আগে শেষবারের মত নতুন উবুন্টু আপডেট করেছিলাম। সেসময় রিলিজ হয়েছিল উবুন্টু ১০.০৪ – ল্যুসিড লিংক্স। সেই রিলিজটার বিশেষত্ব ছিল যে ওটা লং টাইম সাপোর্ট রিলিজ (সংক্ষেপে এলটিএস রিলিজ) ছিল। এলটিএস রিলিজগুলো অন্যান্য রিলিজের চেয়ে বেশি সময় ধরে সাপোর্ট পায়, অন্য রিলিজগুলো যেখানে দেড়মাস সাপোর্ট পায় সেখানে এলটিএস রিলিজগুলো তিন বছর সাপোর্ট পায়। প্রতি দু’বছর পর পর এলটিএস রিলিজগুলো বের হয়। অলস মানুষ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি থাকায় আমি যে ছ’মাস পর পর অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড না করে প্রতি দু’বছরে একবার করব – সেটা অবশ্য জানা কথা। তাই ল্যুসিডের দু’বছর পর প্রিসাইজ মুক্তি পেয়ে আমার ল্যাপটপ ও ডেস্কটপে ল্যুসিডের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিল। বিদায় ল্যুসিড – পুরো দুবছর কোনরকম উপদ্রব না করে আমাকে বিশ্বস্তভাবে সঙ্গ দেবার জন্য অনেক ধন্যবাদ!

  Keep reading →  

  উবুন্টুর ডেস্কটপের সাথে দোস্তি

উবুন্টুর লাইভ সিডি চালিয়ে বা উবুন্টু ইন্সটল করে আপনি টের পেলেন আপনিতো ডেস্কটপের কিছুই বুঝছেননা! উইন্ডোজে যেখানে নীচে একটা টাস্কবার থাকে সেখানে উবুন্টুতে উপরে একটা টাস্কবার। তার উপর টাস্কবারে কোন স্টার্ট বাটন নেই! কোত্থেকে শুরু করবেন কোন কূল কিনারা পাচ্ছেননা, পুরোটাই অচেনা লাগছে, তাই না! চলুন তাহলে অচেনা ভাবটা কাটিয়ে উবুন্টুর ডেস্কটপের সাথে পরিচিত হয়ে দোস্তি করে ফেলি।

  Keep reading →  

  উবি দিয়ে উবুন্টু ইন্সটল পদ্ধতি

অনেকেই উবুন্টু ইন্সটল করতে খুব ভয় পায়। কারন বেশির ভাগ লোকজনই ফরম্যাটের ঝামেলায় যেতে চায়না। তাদের জন্য একদম সহজভাবে উবুন্টু ইন্সটল একটা চমৎকার পদ্ধতি হল উবি (Wubi) ব্যবহার করা। উবি দিয়ে যে কেউ কোন ঝামেলা ছাড়াই উইন্ডোজ পিসিতে উইন্ডোজের যেকোন সফটওয়্যার ইন্সটল করার মত করেই উবুন্টু ইন্সটল করতে পারবে। এজন্য বাড়তি কোন সফটওয়্যার বা অন্য কিছুরও দরকার নেই। নতুন ব্যবহারকারীরা উবুন্টু ইন্সটল করতে গিয়ে পার্টিশন নিয়ে না জানার কারণে প্রায়ই গন্ডগোল করে ফেলে, যার ফলে পার্টিশন মুছে যেতে পারে। উবি দিয়ে ইন্সটল করা হলে আপনার পার্টিশানগুলো হেরফের হবার কোন আশংকাই নেই। তাহলে আসুন দেখি কিভাবে উবি দিয়ে উবুন্টু ইন্সটল করতে হয়।

  Keep reading →  

  লাইভ সিডি’র জাদু

উবুন্টুর খুব দারুণ একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে এদেরকে লাইভ সিডি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। নিশ্চয়ই ভাবছেন যে “লাইভ সিডি” আবার কি জিনিস? নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে এটা হচ্ছে “জীবন্ত সিডি”। সাধারণত যেকোন অপারেটিং সিস্টেম (যেমন উইন্ডোজ) কম্পিউটারে ইন্সটল না করে ব্যবহার করে দেখার কোন উপায় নেই। অর্থাৎ আপনি যদি দেখতে চান যে উইন্ডোজ ভিস্তা বা উইন্ডোজ ৭ দেখতে কেমন, তবে সেটা দেখার একমাত্র উপায় হল সেটাকে কম্পিউটারে ইন্সটল করা। কিন্তু লিনাক্স-নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমগুলো এর ব্যতিক্রম। আপনি ইচ্ছা করলে আপনার হার্ডডিস্কে ইন্সটল না করেই সিডি থেকে বা ইউএসবি স্টিক থেকে এদেরকে চালাতে পারেন। অর্থাৎ ইন্সটল না করেই দেখে নিতে পারবেন যে অপারেটিং সিস্টেমটি কেমন। শুধু দেখাই না বরং একটা পরিপূর্ণ অপারেটিং সিস্টেমের মত একে ব্যবহারও করতে পারবেন। লেখালেখি, ইন্টারনেট ব্রাউজ, অডিও-ভিডিও চালানো ইত্যাদি সব কাজই করতে পারবেন সিডি থেকে। আর যেহেতু লাইভ মোডে ব্যবহার করতে ইন্সটলেশান করার কোনো দরকার পড়েনা তাই আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের পার্টিশনও অটুট থাকবে, কোনো ধরণের ড্যাটা হারাবার ভয় থাকেনা। অর্থাৎ ইন্সটলেশান ছাড়াই পুরো সিডিটাকে “জীবন্তভাবে” ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্যই এর নাম “লাইভ সিডি”।

  Keep reading →  

  উবুন্টুর বুটেবল ইউএসবি তৈরি করুন

আপনি উবুন্টুর যে আইসো (.iso) ফাইলটি নামিয়েছেন, ইচ্ছে করলে সেটিকে সিডি/ডিভিডিতে রাইট না করে শুধুমাত্র ইউএসবি স্টিকে (পেন ড্রাইভ) বিশেষভাবে রাইট করেও উবুন্টু ইন্সটল করা যায়। ইউএসবি থেকে বুট করতে হলে মাদারবোর্ডের বায়োস সেটিং-এ কিছু পরিবর্তন করতে হবে। প্রথমে ইউএসবি ডিভাইস বুট করার অপশনটি চালু করতে হবে। তবে মাদারবোর্ড যদি পুরনো হয় তবে সেটা ইউএসবি স্টিক থেকে বুট সাপোর্ট নাও করতে পারে। এজন্য প্রথমেই জেনে নিন আপনার মাদারবোর্ড ইউএসবি বুট সাপোর্ট করে কিনা। যদি না করে তবে সিডি/ডিভিডি থেকেই উবুন্টু ইন্সটল করুন।

আসুন তাহলে দেখে নিই কীভাবে উইন্ডোজ বা উবুন্টু থেকে আপনার ইউএসবি স্টিককে উবুন্টুর আইসো দিয়ে বুটেবল করবেন।

  • উইন্ডোজ থেকে ইউএসবি বুটেবলঃ

১। ইউএসবি স্টিককে বুটেবল করতে হলে উইন্ডোজে আলাদা সফটওয়্যার দরকার হয়। এক্ষেত্রে ইউনেটবুটিন সবচেয়ে ভালো অপশন। এখান থেকে ডাউনলোড করুন।

২। এটা ইন্সটলের দরকার নেই , .exe ফাইলটি ডাবল ক্লিক করে ইউনেটবুটিন চালান।

৩। নীচের ছবির মত Disk Image অংশে আপনার ISO ইমেজটা দেখিয়ে দেবেন।

৪। Drive এর জায়গায় আপনার ইউএসবি স্টিকটি সিলেক্ট করুন (সাধারণত বাই ডিফল্ট সিলেক্ট করাই থাকে)।

৫। Ok ক্লিক করলেই বুটেবল ইউএসবি স্টিক তৈরি হয়ে যাবে।

  • উবুন্টু থেকে ইউএসবি বুটেবল

১। উবুন্টুতে এজন্য আলাদা কোন সফটওয়্যারের দরকার নেই।

২। নিচের ছবির মত ড্যাশে যান এবং Startup লিখুন।

৩। Startup Disk Creator এ ক্লিক করুন।

৪। Source disc image (.iso) or CD অংশে আপনার ডাউনলোড করা উবুন্টুর আইসো ফাইলটা দেখিয়ে দিন।

৫। Disk to use অংশে আপনার ইউএসবি স্টিক (পেন ড্রাইভ) দেখিয়ে দিন।

৬। Make Startup Disk এ ক্লিক করুন। এবার বুটেবল ইউএসবি ড্রাইভ তৈরি হয়ে যাবে।

আপনি যদি আরো বিস্তারিতভাবে পদ্ধতিগুলো জানতে চান কিংবা উপরের পদ্ধতিতে কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হয়, তবে উবুন্টুর সাইটে বিস্তারিত দেখতে পারেন। সাইটের ডানপাশের অংশে “Help with installing Ubuntu” তে বার্ন করার পদ্ধতি নিয়ে ছবিসহ আলোচনা করা হয়েছে। সাইটটিতে আপনি নিচের মত স্ক্রিনশট পাবেন।

  সিডিতে উবুন্টুর আইসো (ISO) ফাইল বার্ন করা

আপনি উবুন্টুর সাইট থেকে যেই ফাইলটি নামিয়েছেন সেটি হচ্ছে একটি .iso বা আইসো ফাইল। উবুন্টুকে ইন্সটল করতে হবে এই আইসো ফাইল থেকেই। উইন্ডোজ ইন্সটল করতে যেমন উইন্ডোজের সিডি দরকার হয় তেমনি উবুন্টু ইন্সটল করতে উবুন্টুর সিডি দরকার হয়। সেজন্য আইসো ফাইলটিকে একটা সিডি/ডিভিডিতে রাইট করে নিতে হবে। একটা খালি ডিভিডি/সিডি আপনার পিসির সিডি/ডিভিডি বার্নারে প্রবেশ করিয়ে কেবল মাত্র কপিপেস্ট করলেই আইসো ফাইলগুলো বার্ন হয়না। এজন্য প্রতিটি সিডি/ডিভিডি রাইটিং টুলসেই ইমেজ বার্ন (Image Burn) করার অপশন থাকে, সেটা ব্যবহার করতে হয়। আপনি যদি আইসো ফাইল বার্ন করার কিংবা সিডি/ডিভিডি বার্ন করার সফটওয়্যার গুলোর সাথে পরিচিত না হোন তবে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে উবুন্টুর সিডি/ডিভিডি বার্ন করতে পারেন।

  Keep reading →