বাংলায় লিখুন বাংলা!

মোবাইলে কিংবা কম্পিউটারে যারা টপাটপ বাংলিশ এ লিখে যাচ্ছে,তাদের কাছে জিনিসটা সুখকর হতে পারে, কিন্তু আমার মত প্রচুর মানুষের কাছে ব্যাপারটা কিন্তু খুবই পীড়াদায়ক! আগে বলে নেই- “বাংলিশ” বলতে আমি “বাংলা ভাষাকে ইংলিশ অক্ষর দিয়ে লেখা” বোঝাচ্ছি! এটার আরেকটা নাম হচ্ছে “টাকলা”। বাংলিশ বা টাকলা কেন পীড়াদায়ক তা বুঝতে নিচের স্ক্রিনশটগুলো “কষ্ট করে” পড়ুন।


অ্যাজকে কাটপদি বেল্লুর ট্রেন স্টেশনে আমার পারশেনাল মুবেইল টা হ্যারেয়ে জায়ী ... আয়ী মুহুরততে কারো শাট্টে যগা যগ কুরার মুট্টো ন্যামব্যার নেয়ী ... থেয়ী শুবায়ইর প্রুট্টে অনরড রয়ীলো যার যার মোবেইল ন্যামবুর টা আমার কিউমেন্ট বক্স ও ইনবক্সে ডেলে কুভ কশি হুবো  Continue reading বাংলায় লিখুন বাংলা!

হাতের মুঠোয় ভেজাল খাবার

১।

ছোট্ট একটা খবর শেয়ার করি। গতবছর দৈনিক ইত্তেফাকে একটা খবর আসে যে, দিনাজপুরে গাছের নীচে থেকে কুড়ানো লিচু খেয়ে ১১ জন শিশু মারা গিয়েছিল। লিচু গাছে থাকা অবস্থায় কীটনাশক বিষ দেয়া হয়েছিল বলেই এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, রীতিমত গবেষণা চালিয়ে নিশ্চিত করেছিল তারা। আপনি হয়তো খবরটি শোনেনই নাই। তাহলে আরও একটু যোগ করি। ঠিক একই কারণে দিনাজপুরেই ২০১৩ সালে মারা যায় ১৩ জন শিশু, আর ২০১২ সালে মারা যায় ১৪ জন শিশু। বলেন দেখি, এটা কী মৃত্যু নাকি খুন?

২।

ছোটবেলায় ট্রান্সলেশন করেছিলেন মনে আছে? ঐ যে ছিল – “দুধ একটি আদর্শ খাবার – Milk is an ideal food”। কিন্তু এই দুধও কিন্তু এখন আদর্শ নেই – সেখানেও ঢুকে গেছে ভেজাল।

একটা টিভি রিপোর্টে দেখলাম – প্রথমে শ্যাম্পুর সাথে খানিকটা ছানা পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয় ফেনা। এরপর এতে গুঁড়ো দুধ, সয়াবিন, চিনিসহ আরও কিছু রাসায়নিক যোগ করা হয়। আর এই জিনিসটিই বাজারে বিক্রি করা হয় তরল দুধ হিসেবে। এই দুধ গরম করলে যাতে ফেনা হয় সেজন্য মেশানো হয় আরেক ধরনের কেমিকেল। মেশিনেও ভেজাল ধরা পরে না।

Continue reading হাতের মুঠোয় ভেজাল খাবার

ময়লা যুদ্ধ!

ধরুন আপনি এমন একজন মানুষ যিনি রাস্তায়-পার্কে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন। ময়লা বলতে আমি কলার খোসা, চিপ্সের প্যাকেট, বাদামের ঠোঙ্গা, চকলেটের মোড়ক, সিগারেটের প্যাকেট, পানির বোতল থেকে শুরু করে আপনার ময়লা-ছেঁড়া-ফাটা কাপড় সহ সবকিছুই বোঝাচ্ছি।

আপনি একদিন ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার সময় অভ্যাসবশত কলা খেয়ে খোসাটা ফুটপাথে ফেলে দিলেন।

সেই খোসায় পিছলে অন্য আরেক লোক ফুটপাথ থেকে রাস্তায় গিয়ে পড়লেন।

রাস্তায় বাসওয়ালারা যেহেতু নিজেদের স্পেসশিপের ড্রাইভার মনে করে সেহেতু তারা রাস্তায় পড়ে থাকা লোকটার উপর দিয়ে বাস উড়িয়ে নেবার চেষ্টা করল। ফলাফলে লোকটি পিষ্ট হয়ে মারা গেলেন।

লোকটা মারা যাওয়ায় লোকটার আত্মীয়-বন্ধুরা মিলে সেই বাস কোম্পানির বাসগুলো ভাংচুর করলো, আগুন ধরালো। একপর্যায়ে বাসের ডিজেলের ট্যাংকে আগুন ধরে প্রচন্ড বিস্ফোরণ ঘটলো। Continue reading ময়লা যুদ্ধ!

বাক্স দিয়ে বাক্স সাজাই!

— আপনি কি খুব ব্যস্ত? যদি ব্যস্ত থাকেন তাহলে কোন কথা নাই। আর যদি ব্যস্ত না থাকেন তাহলে একটু কথা ছিল।
— জ্বী না ব্যস্ত না। বলেন, কী বলবেন।
— আপনি কি ড্রপবক্স ব্যবহার করেন? যদি ব্যবহার করেন তাহলে কোন কথা নাই। আর যদি ব্যবহার না করেন তাহলে একটু কথা ছিল।
— জ্বী না ব্যবহার করি না।
— ইয়ে … আপনি কি আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো অনলাইনে ব্যাকআপ রাখতে চান? যদি ব্যকআপ রাখতে না চান তাহলে কোন কথা নাই। আর যদি ব্যাকআপ রাখতে চান তাহলে একটু কথা ছিল।
— ভাই, আপনার সমস্যা কোথায়? আপনি এভাবে ভানুর মত কথা বলছেন কেন? অসহ্য লাগছে। যা বলবেন সেটা সরাসরি বলুন।
Continue reading বাক্স দিয়ে বাক্স সাজাই!

(প্রায়) জ্বালানী ছাড়া বিদ্যুৎ – ক্যামনে কী!

গত বছর জ্বালানীবিহীন বিদ্যুৎ নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। এই বছর প্রায় একই কাহিনী নিয়ে আবার লিখতে হচ্ছে! এবারের কাহিনীটি এসেছে দৈনিক কালের কন্ঠদৈনিক জনকন্ঠ নামে বাংলাদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে। খবরটিতে বলা হয় – নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জালাল উদ্দিন দীর্ঘ গবেষণায় সফল হয়ে তৈরি করেছেন খরচ সাশ্রয়ী এক বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র। তাঁর তৈরি অভিনব বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই যন্ত্রটিতে ১০ মিনিট জ্বালানী ব্যবহারের পর যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। জালাল সাহেব সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন – খুবই আনন্দের কথা। কিন্তু উনি পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সূত্রকে কাঁচকলা দেখিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন – এটা মোটেও আনন্দের কথা নয়।

নিজের উদ্ভাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রের সামনে জালাল উদ্দিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

Continue reading (প্রায়) জ্বালানী ছাড়া বিদ্যুৎ – ক্যামনে কী!

জ্বালানী ছাড়া বিদ্যুৎ – ক্যামনে কী!

ইন্টারনেটে একটা লিংক দেখে চোখ আটকে গেল। সেখানে দাবী করা হচ্ছে জ্বালানীবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন দিনাজপুরের শাহিদ হোসেন নামের এক তরুণ। এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা ব্যবহার করা হয়। এগুলো ছাড়াও সূর্যের আলো, বাতাসের গতি কিংবা পানির স্রোতের শক্তিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। শাহিদের “জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন” দাবী অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগুলো কিছুই লাগবেনা। এবং এইখানেই সমস্যা। একজন ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ব্যপারটা মেনে নেয়া আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য।
Continue reading জ্বালানী ছাড়া বিদ্যুৎ – ক্যামনে কী!

কুরবানী ২০১৪

“তাহলে লিখে দেই যে গরুর রং শ্যামলা?” – লোকটা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আমার আর মিরাজ মামার দিকে তাকিয়ে রইল। মিরাজ মামার ততক্ষণে ধৈর্য বলতে যে জিনিসটা থাকার কথা ছিল সেটা বাতাসে মিশে গেছে। ধৈর্যহারা মিরাজ মামাকে দেখতে তেলেগু সিনেমার হিরোদের মত লাগছিল – যারা এক ঘুষিতে মানুষ তো মানুষ, গাড়ি পর্যন্ত ভর্তা করে ফেলে। তেলেগু সিনেমার নায়কদের মতই মিরাজ মামা তখন কটমট করে লোকটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আমি ব্যপারটাকে আয়ত্ত্বে আনার জন্য তাড়াতাড়ি বললাম – “জ্বী ভাই লিখে দেন – গরুর গায়ের রং শ্যামলা!”

আমার কথা শুনে লোকটা মহা উৎসাহে লিখে দিল যে গরুর গায়ের রঙ শ্যামলা। লোকটার উৎসাহ দেখে মিরাজ মামার মনে কি খেলা করছিল জানিনা, কিন্তু আমার বারবার মনে হচ্ছিল যে কী কুক্ষণেই যে হাসিল দেবার জন্য এই লোকটার খপ্পরে পড়লাম!

এই কাহিনীর শুরু গতকালকে, ঈদের ঠিক দুইদিন আগে, যখন গাবতলী থেকে আমাদের আর মিরাজ মামার গরু দুটো কেনা হল। গরু কেনার পর গরু দুটোকে বাসায় নেবার জন্য নীল রংয়ের পিকআপ ভ্যান ঠিক করা হল। গরু দুটোকে পিকআপ ভ্যানে তুলে ফেলার পর ছোটমামা আর আব্বুকে পিকআপের সামনে রেখে আমি আর মিরাজ মামা ছুটলাম হাসিলের কাউন্টারের দিকে। কয়েক মিনিটের ব্যাপার। হাসিলের টাকা দেয়া হয়ে গেলেই গরু দুটো নিয়ে পিকআপ ভ্যান ছুটবে ধানমন্ডির দিকে। একটা গরু নামবে মিরাজ মামার বাসায়, আরেকটা আমাদের বাসায়।

Continue reading কুরবানী ২০১৪

ব্রাজেন্টিনা ও বাংলাদেশ

বাংলার জনগন আসলে ফুটবলকেই প্রথম ভালবেসেছিল, কিন্তু পরে পারিবারিক চাপে পড়ে ক্রিকেটকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে।

চারপাশে বিশ্বকাপ উন্মাদনা দেখে তাই-ই মনে হয়। সুন্দরবনের জনবিরাণ কিছু এলাকা ছাড়া বাংলাদেশে এই মুহুর্তে কোন খোলা জায়গা নাই। যেদিকেই তাকান, দেখবেন চারপাশে বিভিন্ন দেশের পতাকা পতপত করে উড়ছে। বিভিন্ন দেশ বললে অবশ্য কিছুটা ভুল হবে। বলা উচিত সাদা-আকাশী আর হলুদ-সবুজ পতাকায় চারদিক ছেয়ে গেছে। মাঝে মাঝে ইতালি-জার্মানি আর হালের ক্রেজ স্পেনের কিছু পতাকাকে সংখ্যালঘু হিসেবে উড়তে দেখা যায়। শুধু কি পতাকা, লোকজনের জামার রং পর্যন্ত পাল্টে গেছে। শুধু অল্পবয়সী ছেলেপেলেরাই নয়, বরং প্রচুর সংখ্যক আঙ্কেল-আন্টিকেও চারপাশে হলুদ-আকাশী জার্সি পড়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে! আর্জেন্টিনার জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। আর বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক যদি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়, তাহলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৮ কোটি (আমার বিশ্বাস সংখ্যাটা আরও বেশিই হবে, কোন এক অদ্ভুত কারণে বাংলার সিংহভাগ জনগন ৩০ বছর ধরে কোন বিশ্বকাপ না জেতা এই দলটিকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে যায়)। অর্থাৎ বিশ্বে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি সাপোর্টার আর্জেন্টিনার বাইরের আরেকটা দেশে! পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন হয় বলে আমার জানা নেই। এরই নাম বাংলাদেশ! আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ফুটবল নিয়ে চার বছর পর পর এক মাসের জন্য আমাদের দেশে যে ভয়ানক মাতামাতি হয়, তা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার চেয়ে কোন অংশে তো কম নয়ই, বরং ক্ষেত্র বিশেষে তা অনেক বেশি। শুধু একটাই আফসোস, বিশ্ব আমাদের ঘুর্ণিঝড়প্রবন, দরিদ্র, নদীমাতৃক দেশ হিসেবে জানে, কিন্তু পরম ফুটবলপ্রেমী জাতি হিসেবে চেনেনা।

Continue reading ব্রাজেন্টিনা ও বাংলাদেশ