লিনাক্সগুরুকূলের নিকট খোলা পত্র

সকল শ্রদ্ধেয় লিনাক্স বোদ্ধাগণ,

অনুগ্রহপূর্বক বয়ঃশ্রেণী অনুসারে আমার সম্ভাষন গ্রহন করিবেন। আশাকরি পরিবার পরিবর্গের সহিত একপ্রকার কুশলেই রহিয়াছেন।

চরম বিপদে পড়িয়া এই পত্রখানি লিখিতেছি। পুর্বেই বলিয়া রাখিতেছি আমার টেকি জ্ঞান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের। আমার গণকযন্ত্র সম্পর্কিত অজ্ঞানতাকে ক্ষমা সুন্দর চক্ষে দেখিবেন বলিয়া আশা করিতেছি। যদি কেহ পত্রখানির জবাব দেবার প্রয়োজন অনুভব করেন তবে তাহা দিতে কোন দ্বিধা করিবেননা।

পরসমাচার এই যে গত এক বৎসর ধরিয়া অভ্র নামক চাবির বাক্স (কীবোর্ডের বাংলা করিলে ইহাই দাঁড়ায়) ব্যবহার করিয়া আমার মত নাদান মানুষ (যাহারা বিজয় বা ঐ ধরনের লে-আউট রপ্ত করিতে অপারগ) বাংলা ভাষায় জালের জগতে মাতিয়া উঠিয়াছে। ইহাতে বাংলা ভাষার কতটুকু ক্ষতি সাধিত হইয়াছে তাহা সঠিকভাবে নিরূপন করা মুশকিল, তবে নাদান প্রজাতি যাহারা রোমান অক্ষরে বাংলা লিখিতে অভ্যস্ত ছিল তাহাদের যে অশেষ উপকার সাধিত হইয়াছে তাহা নিন্দুক জনেও অকপটে স্বীকার করিবে। সত্য বলিলে বলিতে হয়, অভ্র আছে বলিয়াই আমি গণকযন্ত্রে বাংলা লিখিতে পারিতেছি। অন্যথায় সমগ্র জীবন ভরিয়া আংরেজীতে লিখিতে হইত।

avro_keyboard

Continue reading লিনাক্সগুরুকূলের নিকট খোলা পত্র

উচ্চশিক্ষার্থে (প্রথমবারের মত) বিদেশগামী পোলাপানদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সহজ শপিং গাইড

leaving

গত বছর আইইউটির আমাদের ব্যাচের ফাহিম [সিআইটি০২] বিদেশে নিয়ে যাবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের একটা লিস্ট বানিয়েছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই লিস্টটা পেয়ে বেশ উপকৃত হয়েছিলাম। বিদেশ যাবার সময় কি নিব আর কি নিবনা এইটা নিয়ে মাথা খুব গরম থাকে। সেদিক থেকে এই লিস্ট থাকাতে অন্তত নিজের মাথা খাটিয়ে বের করতে হয়নাই কোনটা নিতে হবে আর কোনটা নিতে হবে না, কোন জিনিসটা বেশি দরকারি আর কোনটা তেমন দরকারি না। কেনাকাটা করার সময় হাতের সামনে লিস্টটা ছিল বলে অনেক কম সময়ে সব কিছু যোগাড় করা সম্ভব হয়েছিল। সেই লিস্টটার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ফাহিমের কাছে কৃতজ্ঞ।

গতবারের ঐ লিস্টের সাথে আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতা জুড়ে দিয়ে আমি একটা আপডেটেড ভার্সন দিলাম। পুরো লিস্টটা ইউনিকোড বাংলায় লেখা। যেহেতু পিডিএফ করা তাই কোন সমস্যা হবার কথা না। যদি কোন সমস্যা হয় তবে সোলায়মান লিপি ফন্ট ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ইন্সটল করতে হবে। এই ভার্সনটা ওপেন সোর্স অর্থাৎ যে কেউ যে কোন জায়গায় অব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে পারবে।

এই ভার্সন নিয়ে কারো কোন মতামত থাকলে নিচের কমেন্ট বক্স ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হল।


Continue reading উচ্চশিক্ষার্থে (প্রথমবারের মত) বিদেশগামী পোলাপানদের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সহজ শপিং গাইড

আবার উল্টো পথে…

দুই বছর, মাত্র দুই বছরের মাথায় আবারো আমি পুরনো জীবনে ফেরৎ আসলাম। পুরনো জীবন মানে সেই জীবন জ্ঞান হবার পরই যে জীবনে অভ্যস্ত ছিলাম। যে জীবন শুরু হয়েছিলো স্কুল দিয়ে। সেই একই কাহিনী, সকালে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়া, টীচারদের লেকচার শোনা, বাসায় ফেরা। পুরোপুরি বাঁধাহীন একটা জীবন। কে কি ভাবলো তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন কষ্ট নেই। যা খুশি তাই করার জীবন।

দুই বছর আগে বিজলী মিস্ত্রী হবার প্রথম সনদ পেয়েছিলাম। সনদ পেয়ে এক পাঠশালায় বিজলী মিস্ত্রী তৈরীর কারিগর হিসেবে ঢুকে পড়লাম। সেই সাথে পড়লাম মহা ফ্যাসাদে। ছাত্রত্বের সব স্বাধীনতা চোখের পলকে উধাও হয়ে গেল। আচার আচরনে গাম্ভীর্য আনতে হল। ফরমাল জামাকাপড় পরার অভ্যাস করতে হল। মেপে মেপে কথা বলার ধরন রপ্ত করতে হল। এক সময় আমি ছিলাম ছাত্র। কিন্তু সময় পালটে এখন আমার কত ছাত্র! এদের সামনে তো আর ফালতু তাফালিং করা চলেনা। বলতে গেলে আমার পুরো জীবনটাই এক লহমায় বদলে গেল।

বদলানো জীবনের প্রথম দিকে বেশ খারাপ লাগত, পরে আস্তে আস্তে মানিয়ে নিচ্ছিলাম। তারপর হঠাৎ কি মনে হল, আরো পড়াশুনা করার ইচ্ছা জাগলো মনে। এটুকু পড়ে হয়ত সবাই ভাববে যে – নাহ্‌ ছেলেতো বেশ পড়ুয়া, নাহলে আবার কেনো পড়াশুনা করার সাধ জাগে? নিজেকে পড়ুয়া ভাবতে আমারও ভালো লাগে, কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে যে আমি মোটেও তেমন না। আমার চাচাতো-ফুফাতো ভাইবোনদের কাছে আমি নস্যি। ছোট্ট একটা কাহিনী বলি। ছোট বেলায় আমারা সব ভাইবোন দাদার বাড়িতে ঈদ করতাম। আমার বড় চাচাতো বোন (যে কিনা এখন রাশভারি ডাক্তার) আমার ছয় মাসের বড়। পিঠেপিঠি বলে ওর সাথেই আমার বেশি খাতির। এই কাহিনীটা যখনকার তখন আমরা সবাই প্রায় গুঁড়া বাচ্চা, মাত্র নামতা শেখা শুরু করেছি। ঈদের দিন সকালে সবার সাথে নামাজ পড়তে যাব, হঠাৎ দেখি ও এসে হাজির। খুব আগ্রহ নিয়ে আমাকে বললো, “তাড়াতাড়ি চলে এসো, আজকে নয়ের ঘরের নামতা শিখতে হবে”! যেই ফ্যামিলির বাচ্চাকাচ্চা ঈদের দিন নামতা শেখার কথা বলতে পারে, সেই ফ্যামিলির ছেলে হয়ে নিজেকে বেশ নগন্য লাগে।

যাই হোক আগের কথায় ফেরৎ যাই। আমি মোটেও তেমন পড়ুয়া না। আইইউটিতে এমনও হয়েছে যে পরীক্ষার আগের রাতে মুভি দেখে ঘুমাতে গেছি! তো এই ছেলের আরো পড়াশুনা করার কথা শুনলে অবাক হবারই কথা। কারন আর কিছুই না, চাকরী করতে আর ভাল লাগছিলনা। মাঝে মাঝে মনে হত যেন অল্প বয়সেই বুড়ো হয়ে গেছি। যখন আমার অন্য বন্ধুরা কেউ ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বা বুয়েটে পড়াশুনা করছে, সেই সময় কিনা আমি চাকরি করি! তাই চাকরি থেকে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা করছিলো। সুযোগ পেয়ে তাই কাজে লাগিয়ে ফেললাম। চাকরী ছাড়তে তাই আমার মধ্যে কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাজ করেনি। পুরনো জীবনে আসতে পেরে আবার বেশ ভাল লাগছে। শুধু পার্থক্য হচ্ছে, এইবার আমাকে থাকতে হচ্ছে দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। আমি আবার উলটা পথে হাঁটা শুরু করলাম, অচেনা দেশে অচেনা পরিবেশে… দেখা যাক কী হয়…